Home / অনান্য / ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বাতিল করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন রানা!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বাতিল করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন রানা!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বাতিল করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন রানা! সম্প্রতি গেস্টরুম ও গণরুমের সঙ্গে ‘মানিয়ে নিতে না পেরে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে গেছেন রানা নামে এক শিক্ষার্থী। তিনি স্যার এফ রহমান হলের ১০৮ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী রানা। বর্তমানে রানা সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে ইংরেজি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। এই কলেজ থেকেই তিনি এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি বাতিলের বিষয়টি রানা নিজেই নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার কারণে ভর্তি বাতিল করেছি। এখন সিরাজগঞ্জ চলে এসেছি। টিউশনি করাবো আর পড়াশোনা করবো। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বাতিল করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন রানা!

ভর্তি বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বিভাগ থেকেও। একাধিক কর্মকর্তা জানান, ভর্তি বাতিল করার জন্য আসার পর তাকে আমরা বুঝিয়েছি। ভর্তি বাতিল না করার অনুরোধ করি। তার পরিবারের সঙ্গেও কথা হয়েছে। কিন্তু তিনি তড়িঘড়ি করেই ভর্তি বাতিল করে চলে যান। ভর্তি বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, সিরাজগঞ্জ কলেজে ইংরেজি বিভাগে পড়বেন তিনি। তাই ভর্তি বাতিল করছেন।

 

গেস্টরুমে কী হয়

ছাত্রদের হলগুলোতে সাধারণত সন্ধ্যার পর বা রাতে অতিথিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে ‘শিক্ষা’ দেওয়া হয়। এটিই গেস্টরুম সংস্কৃতি নামে পরিচিত। সপ্তাহে সাধারণত চার দিন হলভেদে ৪৫ মিনিট থেকে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে। দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের গেস্টরুম করান। সেখানে হলের অতিথিকক্ষের সোফাগুলোতে বসেন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের এ সময় সামনে থাকা চেয়ারে বসতে হয়। যেসব হলে চেয়ার নেই, সেখানে শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘গেস্টরুম কর্মসূচি’তে দুটি পর্ব থাকে। প্রথম অংশে (অনার্স) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার’ শেখান এবং ‘অবাধ্যতা’ বা ‘অভিযোগের’ বিচারের নামে মানসিক নিপীড়ন করেন। কখনো কখনো শারীরিকভাবেও আঘাত করা হয় শিক্ষার্থীদের। এই পর্ব শেষ হলে অতিথিকক্ষে প্রবেশ করেন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে থাকার ‘উচ্চতর আচরণ’ শেখান। এরপর একে একে প্রবেশ করেন (অনার্স) স্নাতক চতুর্থ বর্ষ এবং (মাস্টার্স) স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা।

গণরুমে কী হয়

গণরুমে পড়াশোনার পরিবেশ থাকে না। গাদাগাদি করে থাকা শিক্ষার্থীরা এক বিশৃঙ্খল জীবনের মধ্যে থাকেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি, গেস্টরুম, বড় ভাইদের নির্দেশে ঘুরতে বেরোনো—এসব মিলিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে ধস নামে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত ভালো ফল করে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ পড়াশোনায় চূড়ান্ত অমনোযোগী হয়ে পড়েন। এতে প্রথম সেমিস্টার থেকেই অনেকের ফল খারাপ হতে থাকে। এর ধারাবাহিকতা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন জুড়ে চলতে থাকে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে এখানে গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতি নেই।

তথ্য সূত্রঃ প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস

About admin

Check Also

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি যেভাবে নিবেন

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি যেভাবে নিবেন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সারা দেশে ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব …

Leave a Reply

Your email address will not be published.