<
JOB

পিডিবিতে নিয়োগের বৃত্তান্ত

১১ ধরনের পদে ১৫১ জন নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে নিয়োগ পদ্ধতি ও নিয়োগ প্রস্তুতি এবং দায়িত্ব ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাচ্ছেন রবিউল আলম লুইপা

নিয়োগ পদ্ধতি ও নিয়োগ প্রস্তুতি
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার পদ্ধতি ও সিলেবাস সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। তবে বিগত দুটি নিয়োগ পরীক্ষা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সব পদের জন্য প্রথমে লিখিত ও পরবর্তী সময়ে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, তবে কোনো কোনো পদে কম্পিউটারের ওপর ব্যাবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। প্রশ্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রশাসন, হিসাব, নিরাপত্তা ও অনুসন্ধান, ভাণ্ডার, প্রকৌশল প্রভৃতি শাখায় ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ২৫/৫০ নম্বরের ভাইভা পরীক্ষা নেওয়া হয়ে থাকে।

এ ক্ষেত্রে জেনারেল পদগুলোতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও আইসিটি এবং সাধারণ জ্ঞান থেকে লিখিত প্রশ্ন করা হয়ে থাকে।
টেকনিক্যাল পদগুলোতে (যেমন- হিসাব ও অর্থ, মেডিক্যাল অফিসার ইত্যাদি) লিখিত পরীক্ষার ৮০% নম্বর পদ ও বিষয়ভিত্তিক এবং ২০% নম্বর বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও আইসিটি এবং সাধারণ জ্ঞান থেকে হতে পারে। আবার প্রকৌশলসংক্রান্ত পদগুলোতে লিখিত পরীক্ষার সঙ্গে একই খাতায় টিকচিহ্ন দিয়ে ৩০/৪০ নম্বর এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তরও করতে হতে পারে। প্রকৌশল সম্পর্কিত পদে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ প্রশ্ন করতে পারে।

জেনারেল পদগুলোর লিখিত পরীক্ষায় ব্যাংকের লিখিত পরীক্ষার মতো বাংলা ও ইংরেজি ফোকাস রাইটিং, ট্রান্সলেশন ও রিট্রান্সলেশন, অফিশিয়াল চিঠি, সাধারণ জ্ঞান (শর্টনোট আকারে), লিখিত গণিত ইত্যাদি টপিক থেকে প্রশ্ন করা হতে পারে।

টেকনিক্যাল পদগুলোর পরীক্ষায় একাডেমিক বই থেকে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন করা হতে পারে। নিয়োগ প্রস্তুতির জন্য ব্যাংকের বিগত বছরের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন এবং বিসিএস লিখিত পরীক্ষার বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি বই থেকেও প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এবং উন্নয়ন প্রকল্প থেকেও প্রশ্ন করা হতে পারে।

মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর বুদ্ধিমত্তা, আচরণ, পদ ও প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ধারণা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান থেকে প্রশ্ন করা হতে পারে।

এখানে একাডেমিক ফলাফলের ওপর একটি নির্দিষ্ট নম্বর বরাদ্দ থাকতে পারে।
একনজরে পিডিবি
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১ মে রাষ্ট্রপতির আদেশবলে সাবেক পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ওয়াপদা) ভেঙে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড করা হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশকে আলোকিত ও শিল্পায়িত করার দায়িত্ব নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) যাত্রা শুরু করে।
পরবর্তী সময়ে পিডিবির বিদ্যুৎ সঞ্চালন, উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার পূর্ণ বা অংশবিশেষ অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে যেমন- পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ডিপিডিসি) লিমিটেড, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কম্পানি (ডেসকো) লিমিটেড, পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) লিমিটেড, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কম্পানি লিমিটেড (এপিএসসিএল), ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি) লিমিটেড, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ওজোপাডিকো) লিমিটেড, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি (নওপাজেকো) লিমিটেড, নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কম্পানি (নেসকো) লিমিটেড, রুরাল পাওয়ার কম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটিতে সাধারণত নন-ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইঞ্জিনিয়ারিং দুটি শাখায় আলাদা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

 

নন-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মধ্যে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন, হিসাব/অর্থ/অডিট/বাণিজ্যিক পরিচালন, নিরাপত্তা ও অনুসন্ধান), মেডিক্যাল অফিসার, রসায়নবিদ, ক্রয়/ভাণ্ডার/সিঅ্যান্ডএফ কর্মকর্তা, সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পদে এবং অন্যান্য গ্রেডের পূর্বোক্ত পদগুলোর অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারী (যেমন- হিসাবরক্ষক, সহকারী হিসাবরক্ষক ইত্যাদি) নিয়োগ দেওয়া হয়। ইঞ্জিনিয়ারিং হিসেবে সহকারী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী প্রভৃতি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বোর্ড পরিচালনার জন্য সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ৬ জন সদস্য ও ১ জন চেয়ারম্যান রয়েছেন। পিডিবির কর্মকর্তা অথবা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা অথবা অন্য কোনো সেক্টর থেকে বিশেষজ্ঞদের এই বোর্ডে নিয়োগ প্রদান করা হয়।
প্রকৌশলী ও রসায়নবিদ কর্মকর্তাদের পাওয়ারপ্লান্ট (দপ্তর প্রধান-প্রধান প্রকৌশলী), জোন-জেলা-উপজেলা দপ্তর অথবা প্রধান কার্যালয়সহ যেকোনো কার্যালয়ে পদায়ন হতে পারে। হিসাব/অর্থ/অডিট/বাণিজ্যিক পরিচালন বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রধান কার্যালয় ও রিজিওনাল অ্যাকাউন্টস অফিসে (দপ্তরপ্রধান-উপপরিচালক) এবং প্রশাসন, নিরাপত্তা ও অনুসন্ধান বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রধান কার্যালয় ও কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত অফিসে পদায়ন হতে পারে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রেষণে পদায়নের সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশ সচিবালয় সংলগ্ন বিদ্যুৎ ভবন। এর অধীনে জোনাল অফিস এবং জোনাল অফিসের অধীনে জেলা ও উপজেলা অফিস রয়েছে। যোগদানের পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকা, গাজীপুর (টঙ্গী), চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙমাটি-কাপ্তাই, রাজশাহী, নরসিংদী-ঘোড়াশাল-এর যেকোনো ট্রেনিং একাডেমিতে এক মাস বা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত অন্যান্য মেয়াদি বনিয়াদি প্রশিক্ষণ ও সমসাময়িক প্রশিক্ষণসহ দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করতে হতে পারে।
বেতন ও সুযোগ-সুবিধা
প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুসারে মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতাসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন (এ ছাড়া বিদ্যুৎ ভাতা, পাওয়ারপ্লান্টে চাকরিকালীন বিশেষ ঝুঁকি ভাতা, ডিস্ট্রিবিউশনে চাকরিকালীন রোস্টার ভাতা, কর্মচারীদের ওভারটাইমসহ প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সুবিধাদি পাওয়া যেতে পারে)। অন্যান্য রাজস্ব খাতের প্রতিষ্ঠানের মতো এখানেও পেনশন সুবিধা আছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পদায়নস্থলে কোয়ার্টার সুবিধা রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী/উপপরিচালক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) থেকে গাড়ি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
পদসোপান
প্রশাসন এবং নিরাপত্তা ও অনুসন্ধান শাখার পদসোপান হলো- সহকারী পরিচালক> সিনিয়র সহকারী পরিচালক> উপপরিচালক> অতিরিক্ত পরিচালক> পরিচালক> সদস্য; অর্থ শাখার পদসোপান হলো- উচ্চমান হিসাব সহকারী/সহকারী হিসাবরক্ষক> সিনিয়র সহকারী হিসাবরক্ষক> হিসাবরক্ষক> সহকারী পরিচালক> সিনিয়র সহকারী পরিচালক> উপপরিচালক> অতিরিক্ত পরিচালক> পরিচালক> নিয়ন্ত্রক> সদস্য; প্রকৌশল শাখায় উপসহকারী প্রকৌশলী> সহকারী প্রকৌশলী>উপবিভাগীয় প্রকৌশলী> নির্বাহী প্রকৌশলী> তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী> অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী> প্রধান প্রকৌশলী> সদস্য; এ ছাড়া অন্যান্য শাখায় মেডিক্যাল অফিসার> সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার> চিফ মেডিক্যাল অফিসার; রসায়নবিদ> সিনিয়র রসায়নবিদ> মুখ্য রসায়নবিদ ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *